আজ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী : এসএমপি অতিথি থেকে পাচ্ছে নিজস্ব ঠিকানা

আজ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী : এসএমপি অতিথি থেকে পাচ্ছে নিজস্ব ঠিকানা

155
0
SHARE

বিশেষ প্রতিবেদক ::
নানা সমস্যা আর সংকট নিয়ে এগারো বছর পার করে সম্ভাবনার মুখ দেখছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। গত ১১ বছর এসএমপির কার্যক্রম চলেছে প্রাপ্তির চেয়ে বেশি অপাপ্তি নিয়ে। এ যেন ছিল শূন্যের মধ্যে মহানগর পুলিশের বসবাস। এসএমপির ছিল না নিজস্ব ভূমিতে সদর দপ্তর, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বাসস্থান এবং পুলিশ লাইনের জায়গা। তবে ১২ বছরে পা রেখে এসব অপ্রাপ্তি এবার প্রাপ্তিতে রূপ নিচ্ছে। বলা যায় দীর্ঘ একযুগে পা রেখে প্রাপ্তির মুখ দেখেছে মহানগর পুলিশ।
সূত্র মতে, গত এগারো বছরেও ছিল না এসএমপির নিজস্ব কার্যালয় করার মতো একখন্ড ভূমি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউসে কমিশনার কার্যালয়ের সার্বিক কাজ এখনো চলছে। রেস্ট হাউসে সাধারণত অতিথিরা থাকেন। নিজস্ব ঠিকানা না হওয়ায় এসএমপি এত দিন ছিল ঠিক অতিথির মতো। তবে অতিথিরা এখন পেয়েছেন তাদের আপন ঠিকানা। নগরীর নাইওরপুলের সেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউসের ৬৬ শতক ভূমি অবশেষে মহানগর পুলিশ পেয়েছে এবং ওই জায়গায়ই ভবিষ্যতে এসএমপির সদর দপ্তরের কার্যালয় নির্মাণ করার পরিকল্পনা চলছে। নগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, ওই ভূমিতে নগর পুলিশের একটি অত্যাধুনিক সদরদপ্তর নির্মাণ করা হবেÑযা প্রক্রিয়াধীন।
চলতি বছরে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ওই ৬৬ শতক ভূমি সরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বুঝিয়ে দিয়েছে। যার রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়েছে এবং সম্পূর্ণ টাকাও পরিশোধ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া। এ ভূমিতে মহানগর পুলিশের সদরদপ্তর নির্মাণ করা হবে। তিনি জানান, শুধু যে সদর দপ্তরের ভূমি হয়েছে এমন নয়; গত ডিসেম্বর মাসে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তৈয়ব সুলতানপুরে নিজস্ব একটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশ লাইন স্থাপনের জন্য ২৫ একর ভূমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এছাড়া জেলা পুলিশ লাইনে এসএমপি ৬ তলা বিশিষ্ট ব্যারাক ভবন করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে। যার নির্মাণ কাজ বর্তমানে চলছে এবং শাহপরান থানায় ৮ তলাবিশিষ্ট ভবনের ৫ তলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ বর্তমানে চলছে। এছাড়াও সুবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ি ভেঙে ৬ তলা ভবন নির্মাণ এবং ঊর্ব্বতন কর্মকর্তাদের বাসভবন নির্মাণ কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গত বছরের ২৬ অক্টোবরের পর আজ পর্যন্ত এসএমপিতে ২০টি মোটরসাইকেলসহ ২৬টি যানবাহনও বেড়েছে বলেও জানান তিনি।’
২০০৬ সালে ২৬ অক্টোবর সিলেট মহানগরে বিশাল আয়তনে এলাকা নিয়ে দুটি থানা দিয়ে মহানগর পুলিশের কার্যক্রম শুরু করে। প্রথম দিকের ওই দুটি থানা হচ্ছে, কোতোয়ালি ও দক্ষিণ সুরমা থানা। পাঁচ বছর পর ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে দুটি থানা থেকে সেবার মান বাড়াতে ৬টি থানায় উন্নীত হয় এসএমপি। মহানগরের উত্তর এলাকায় কোতোয়ালি থানা ছাড়াও এয়ারপোর্ট, জালালাবাদ থানা গঠন করা হয়। আর মহানগরের দক্ষিণে দক্ষিণ সুরমা থানার সাথে মোগলাবাজার ও শাহপরান থানা করে মোট ৬টি থানা নিয়ে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করে এসএমপি।
২০০৬ সালে যাত্রাকালে ১৩শ’ লোকবল নিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হলেও ২০১১ সালে অক্টোবর মাসে নতুন ৪টি থানা চালু হলে এর মধ্যে বাড়ানো হয় লোকবলও। আর নিজস্ব ভূমিতে কোতোয়ালি, দক্ষিণ সুরমা ও শাহপরান থানায় কার্যক্রম চললেও প্রতিষ্ঠার ছয় বছরেও স্থায়ী ঠিকানা হয়নি, এয়ারপোর্ট, জালালাবাদ ও মোগলাবাজার থানার।
ওই তিনটি থানা সূত্র জানায়, প্রতি মাসে ওই তিন থানার বাসা ভাড়া বাবদ সরকারের ব্যয় হয় ২ লাখ টাকার উপরে। যা বছরে ২৪ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়।
শুধু তাই নয়; ছয়টি থানা নিয়ে গঠিত মহানগর পুলিশের (এসএমপি) লোকবল, যানবাহন, আবাসন, স্যানিটেশন সংকট যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। ছয়টি থানা এলাকায় ৮টি পুলিশ ফাঁড়ি ও দুটি পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থাকলেও পুলিশের দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো যানবাহন নেই। ওই সকল ফাঁড়ি পুলিশ সদস্যদের সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন রিকুইজিশন করে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এছাড়াও এসএমপির মঞ্জুরিকৃত লোকবলের সংখ্যা ৩১শ জন হলেও বর্তমানে আছেন ২৬শ’ ২০ জন। মঞ্জুরিকৃত জনবলের চেয়ে কম আছেন ৪৮০ জন।
এসএমপিতে রয়েছে যানবাহন সমস্যাও। ছয়টি থানার ওসির গাড়ি ছাড়া পুলিশ ডিউটির জন্য কোনো থানায়ই গাড়ি নেই। কার্যক্রম চালাতে প্রতিদিন প্রায় ৮০টি গাড়ি রিকুইজিশন করতে হয়।
নিজস্ব কোনো হাসপাতালও নেই। নগরীর মধুশহীদে সিলেট জেলা পুলিশের একমাত্র হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে হয় মহানগর পুলিশকে। অনেক সময় এ হাসপাতালে স্থান না পেলে তাঁদের যেতে হয় সিলেট ওসমানী হাসপাতালে।
মহানগর পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অতিরিক্ত উপকমিশনার ও সহকারী কমিশনারদের যানবাহন নেই। তাঁদের গাড়ি খুবই জরুরি।
এদিকে, পানি সংকটে রয়েছেন মোগলাবাজার থানার পুলিশরা। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, ‘মোগলাবাজার থানা ভাড়া বাসায় চলছে। এই থানার সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে পানি। দূষিত পানি ব্যবহার করে অনেক পুলিশ সদস্য চর্মরোগে আক্রান্ত হতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

LEAVE A REPLY